বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৫, ২০২৪

কলারোয়া নিউজ

প্রধান ম্যেনু

সাতক্ষীরার সর্বাধুনিক অনলাইন পত্রিকা

ইতিহাসের পাতা থেকে...

‘‘বাংলা সনের ইতিবৃত্ত’’ — প্রফেসর মো. আবু নসর

প্রফেসর মো. আবু নসর: আজ থেকে ৪৩৩ বছর আগে মুঘল স¤্রাট আকবর পয়লা বৈশাখ প্রবতর্নের মাধ্যমে বাংলা সনের সূচনা করেন। ইংরেজি ১৫৮৪ সালে পয়লা বৈশাখকে বাংলা সনের প্রথম দিন নির্ধারণ করে বঙ্গাব্দের প্রবর্তণ করা হলেও তার কার্যকারিতা দেখানো হয় ইংরেজি ১৫৫৬ সালের ১১মার্চ থেকে অর্থাৎ সম্রাটের সিংহাসন আরোহনের সময় থেকে। সেই হিসেবে ৪৬১ বছর আগে ৯৬৩ হিজরিতে ৩৫৪ দিনের স্থলে ৩৬৫ দিনে গণনায় এনে সম্রাট আকবর নতুন বাংলা সন প্রবর্তন করেন।

সন আরবি শব্দ। অর্থ হলো অব্দ বা বর্ষ বা বর্ষপুঞ্জ। আবার সনকে সাল বলা হয়। সাল ফার্সি শব্দ। হিজরি থেকে উৎসারিত হয়েছে বাংলা সন। হযরত ওমর (আ.) ৬৩৯ খ্রিষ্টাব্দে আনুষ্ঠানিক ভাবে হিজরি সনের প্রবর্তণ করেন। বছরটি ছিল ১৭ হিজরি। হিজরি সনের গণনা করা হয় চাঁদের হিসেবে আর বাংলা সন গণনা করা হয় সৌর হিসেবে। চন্দ্র বা চাঁদের হিসেবে ৩৫৪ দিন আর সৌর হিসেবে ৩৬৫ দিন। স¤্রাট আকবরের রাজত্বকালে কৃষকদের কাছ থেকে রাজস্ব বা খাঁজনা আদায়ের সুবিধার্থে হিজরি সনকে ৯৬৩ হিজরিতে ৩৫৪ দিনের স্থলে ৩৬৫ দিন গণনায় এনে নতুন একটি সন প্রবর্তন করা হয়, এটাই বাংলা সন।

প্রফেসর মো.আবু নসর

হিজরি সন হলো চান্দ্র সন। চাঁদ দেখে গণনার উপর এ সনের ভিত্তি। বাংলা সৌর সন। সৌর সনে দিনক্ষন গণনা করা সহজ এবং এর একটি নির্দিষ্ট ভিত্তি আছে।

সম্রাট আকবরের অর্থ বিভাগের উপদেষ্টা আমীর ফতেউল্লাহ সিরাজী বাংলা মাসের নামগুলো নক্ষত্রের নাম থেকে নিয়ে সৌর মাসের দিন মিলিয়ে বাংলা সন প্রবর্তন করেন। এ ব্যাপারে স¤্রাটের নির্দেশ অনুযায়ী অনেক ভেবে চিন্তে ১৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দে পয়লা বৈশাখকে বাংলা সনের প্রথম দিন নির্ধারণ করে বঙ্গাব্দের প্রবর্তন করা হয় যার কার্যকারিতা দেখানো হয় ১৫৫৬ সালের ১১ মার্চ থেকে অর্থাৎ সম্রাটের সিংহাসনে আরোহনের সময় থেকে। উল্লেখ্য, আকবরের রাজত্বকাল ছিল ১৫৫৬-১৬০৫ সাল পর্যন্ত। সূত্র মতে, ১৫৫৬ সালের ১১ এপ্রিলকে পয়লা বৈশাখ ধরে ‘ফসলী’ সন হিসেবে বাংলা নববর্ষের প্রবর্তন। এই সঙ্গে সম্রাট আকবরের সিংহাসন আরোহনের ঘটনা স্মরণীয় হয়ে আছে বাংলা নববর্ষের সঙ্গে। সেই সময় থেকে এ’দেশের মানুষ চাষাবাদ, খাঁজনা পরিশোধ, সংবছরের হিসাব-নিকাশ সব কিছুতেই বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুসরণ করে থাকে। মুঘল শাসনামল বাবর থেকে শুরু করে বাহাদুর শাহ জাফর পর্যন্ত বিস্তৃত। তারপর পট পরিবর্তনের পালায় বৃটিশ আমল ও পাকিস্তান আমল পার হয়ে বাংলাদেশ আমল পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে বাংলা সন।
এ কথা অনস্বীকার্য যে, সম্রাট আকবরের রাজত্বকালেই বাংলা সনের প্রবর্তন ও প্রচলন। তিনি দিল্লির সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন ১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দে। ২৯ বছর রাজত্ব করার পর তিনি পঞ্জিকা ও বর্ষপঞ্জি সংস্কারের উদ্যোগ নেন। হিজরি সন ও সম্রাট আকবরের সিংহাসন আরোহনের বছরকে সংযুক্ত করেই বাংলা সন প্রবর্তিত হয়।

দিন দিন বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনটি বাঙালির জীবনে একটি প্রধান উৎসবের দিন হিসেবেই পালিত হয়ে থাকে। প্রতিটি জাতি-গোষ্ঠির নিজস্ব ধর্মীয় অনুষ্ঠান থাকলেও একমাত্র পয়লা বৈশাখ অনুষ্ঠানটি-ই বাঙালির অসম্প্রদায়িক একটি আনন্দ অনুষ্ঠান, যা জাতি-ধর্ম নির্বশেষে সব মানুষ পালন করে থাকে। আর তাই পয়লা বৈশাখ হয়ে ওঠে প্রাণের উৎসব। বর্ষ পরিক্রমায় পুরাতন বছর বিদায় নেয় তার গ্লানি আর জীর্ণতা নিয়ে, আগমন ঘটে সম্ভাবনাময় নতুন বছরের। নববর্ষের হৈমান্তিক সোনা ঝরা সুপ্রভাত আসছে বাংলার আরো একটি নতুন বছর ১৪২৪ সন।

বাংলা সনের বয়স প্রায় সাড়ে চার’শ বছর। বঙ্গাব্দ/ নববর্ষ এখন জাতীয় উৎসব ও বাঙালির সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক মিলনমেলা। নববর্ষ উদযাপনের রীতিও অনেক প্রাচীন। সে’কালের প্রাচীন মানুষ নববর্ষে দিন-ক্ষন-লগ্নি ঠিক করতো সূর্যের উত্তরায়নে ও দক্ষিণায়নে ঋতু পরিবর্তন দেখে। তাই বলা হয় নববর্ষ ঋতুভিত্তিক বা আর্তব উৎসব। বাংলা ভাষার মতো বাংলা বর্ষ গণনা পদ্ধতি বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য লালিত সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ ও অবিচ্ছেদ্য অংশ।

১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দে সম্রাট আকবর যে নতুন সনের প্রবর্তন করেন তার পূর্বে এ অঞ্চলে বিভিন্ন নামে বিভিন্ন ভাবে বর্ষ গণনার প্রচলন ছিল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল- মল্লাব্দ, শকাব্দ, বিক্রমাব্দ, হর্যাব্দ, বুদ্ধাব্দ, পালাব্দ, চৈতন্যাব্দ, গুপ্তাব্দ, নশরত শাহী সন, শালিবাহন সন, জালালি সন, সেকান্দর সন, ভারত সন ইত্যাদি। তখনকার প্রচলিত সনগুলোর অধিকাংশই গণনা করা হতো চান্দ্র মাসের হিসেব অনুযায়ী।

সময়ের গতিময় নিজস্বতা ভুলে আমরা যতই বিশ্বজনীন হয়ে উঠি না কেন, আমাদের অস্তিত্ব আর প্রেরণা জুড়ে বৈশাখের প্রথম দিনটিই যেন ছড়িয়ে দেয় লাল আভা। নববর্ষের পয়লা বৈশাখ বাঙালির আকাশে এক নতুন সূর্যোদয়। বাঙালি জাতির জীবনে এক মহা আনন্দের দিন। পয়লা বৈশাখ থেকে শুরু হয় আরেকটি নতুন বছরের শুভ সূচনা, নতুনভাবে পথচলা, নতুনের আবাহন। বাঙালি জাতীয়তাবাদ সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে বাংলা নববর্ষের ভূমিকা অনস্বীকার্য ও অপরিহার্য। অসম্প্রদায়িক চেতনাবোধে উজ্জ্বীবিত এ মিলনমেলা। বাঙালি সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র স্বরূপ।

সার্বজনীনতার ক্ষেত্রে এর কোন তুলনা নেই বাংলা নববর্ষের সার্বজনীনতা আমাদের জাতীয় জীবনের সার্বজনীনতায় প্রভাব ফেলে। যেটা আমাদের ঐক্যসূত্রে গাঁথার এক মূলমন্ত্র । বাংলা নববর্ষ আমাদের জাতীয় সত্ত্বার প্রতিক ও ইতিহাস ঐতিহ্য মন্ডিত । বাঙালির জাতীয় সংস্কৃতির স্বতন্ত্র বিকাশে একটি অতি গুরুত্বপুর্ন দিন হলো বাংলা নববর্ষ । পয়লা বৈশাখ বাঙালির ইতিহাস ও চিরায়ত ঐতিহ্য , প্রত্যাশার একটি রেখাচিত্র । ১৪২৪ নববর্ষে সবার জীবন আনন্দময় হয়ে উঠুক সেই প্রত্যাশা সকলের।

একই রকম সংবাদ সমূহ

‘ভোমরা স্থলবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ বন্দর করা হবে’ : নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী

সাতক্ষীরা ভোমরা স্থলবন্দর উন্নয়ন ও পরিচালনা গতিশীলতা আনয়নের নিমিত্ত গঠিতবিস্তারিত পড়ুন

টিকাদানের সাফল্যে ‘ভ্যাকসিন হিরো’ পেলেন প্রধানমন্ত্রী

টিকাদানের সাফল্যে ‘ভ্যাকসিন হিরো’ পেলেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচি একটিবিস্তারিত পড়ুন

সর্বজনীন স্বাস্থ্য কর্মসূচির অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার আহ্বান

জাতিসংঘের ৭৪তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে এসেবিস্তারিত পড়ুন

  • রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হচ্ছে চীন
  • ইউপি নির্বাচন : চেয়ারম্যান-মেম্বারদের শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি ‘গুজব’
  • বাংলাদেশের নর্দান ইউনিভার্সিটি ও কানাডার কর্টলার ইন্টারন্যাশন্যাল, রেসিন্ট ইন্টারন্যাশন্যালের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি
  • চতুর্থ ড্রিমলাইনার ‘রাজহংস’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
  • প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৩৭টি পদক লাভ
  • ড. কালাম ‘এক্সিলেন্স এওয়ার্ড’ গ্রহণ করেই দেশবাসীকে উৎসর্গ করলেন প্রধানমন্ত্রী
  • তৃণমূল থেকে সংগঠনকে গড়ে তুলতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
  • মোবাইল ছিনতায়কারীকে দৌড়ে ধরলেন ম্যাজিস্ট্রেট
  • কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শোভন-রাব্বানির ভাগ্য নির্ধারণ
  • পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী
  • পুলিশের ব্যাংকের যাত্রা শুরু
  • বিএনপি অর্থ-সম্পদ অর্জনে বেশি ব্যস্ত ছিল: প্রধানমন্ত্রী