শুক্রবার, জুলাই ১২, ২০২৪

কলারোয়া নিউজ

প্রধান ম্যেনু

সাতক্ষীরার সর্বাধুনিক অনলাইন পত্রিকা

জনবল সংকটে ধুকছে সাতক্ষীরা প্রাণিসম্পদ দপ্তর

জনবল সংকটে ধুকছে সাতক্ষীরা প্রাণিসম্পদ দপ্তর। খাদ্যের অপ্রতুলতা, রোগের প্রাদুর্ভাব, সুষ্ঠু সংরক্ষণ, বিপণন ও সীমিত জনবলের কারণে প্রাণিসম্পদ দপ্তরে উন্নয়ন কার্যক্রম চ্যালেঞ্জের মুখে। চাহিদার তুলনায় জেলায় দুধ, ডিম ও মাংসের উৎপাদন কম। মাংস উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও সাতক্ষীরা রয়েছে অনেক পিছিয়ে।

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে ৮৫টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছে ৫৭ জন। ফলে ২৮টি শুন্য পদে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকার কারণে স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাঁধার সম্মুখিন হচ্ছে দপ্তরটি। যদিও একজন ব্যক্তির প্রাণিজ আমিষের দৈনিক চাহিদার ৭৬ ভাগই এ বিভাগ সরবরাহ করে আসছে। কৃষি নির্ভর জেলাটির আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় প্রাণিজ সম্পদ দপ্তরটির গতি ফিরিয়ে আনা দরকার বলে মনে করছেন এখানে সংশ্লিষ্টরা।

প্রাণি সম্পদ দপ্তরটির মতে দেশের মোট জন সংখ্যার ২০ ভাগ প্রত্যক্ষ এবং ৫০ ভাগ পরোক্ষভাবে প্রাণিজসম্পদ খাতের উপর নির্ভরশীল। সেই হিসেবে জেলার প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রাণিজসম্পদ খাতের উপর নির্ভরশীল। প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে বেশির ভাগ বাড়িতে গবাধি পশু পালন করে আসছে। এছাড়া, হাস, মুরগীসহ বিভিন্ন জাতের পাখি পালন করছে তারা। অনেকে বিভিন্ন ঋণদান সংস্থার কাছ থেকে ঋণ নিয়ে পশু ও পাখি পালন করে আসছে। কিন্তু প্রতি বছর খাদ্যের অপ্রতুলতা, রোগের প্রাদুর্ভাব, সুষ্ঠু সংরক্ষণ, বিপণনের কারণে অসংখ্য প্রাণি মারা যাচ্ছে। ফলে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে জেলাবাসি।

গত তিন বছরে দেশে প্রাণিজ আমিষের উৎপাদন বেড়েছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৭ অনুযায়ী বর্তমানে মাংস, দুধ ও ডিমের জন প্রতি প্রতিদিনের প্রাপ্যতা মাংস ১২১.৭৪ গ্রাম এবং দুধ ১৫৭.৯৭ মি.লি। বছরে ডিমের প্রাপ্যতা রয়েছে জনপ্রতি ৯২.৭৫টি। যদিও এর আগের বছর ডিমের প্রাপ্যতা ছিল জনপ্রতি ১০৪টি।

প্রাপ্যের তুলনায় জেলাতে ব্যাপক খাটতি রয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের মতে, জেলায় দুধের চাহিদা রয়েছে ১.৮২৫ লক্ষ মেট্রিক টন। সেখানে উৎপাদন হয় ০.৯১০ লক্ষ মেট্রিক টন। এরপরও জেলার চাহিদা মিটিয়ে দুধ অন্য জেলায় সরবরাহ করা হয়। এছাড়া দুগ্ধজাত পণ্য গুড়া দুধ ও তরল দুধ প্যাকেট করে বাজারজাত করা হয়। ঘাটতির পরও কিভাবে দুধ জেলার দুধ অন্য জেলায় পাঠানো হয় জানতে চাইলে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সমরেশ চন্দ্র দাশ জানান, সাতক্ষীরার মানুষ তুলনামূলক দরিদ্র। ৫ সদস্যের একটি পরিবারের জন্য তারা ২শ’ থেকে ২৫০ গ্রাম দুধ যথেষ্ট মনে করে। এছাড়া অনেক পরিবার দৈনিক দুধ ব্যবহার করে না। ফলে জেলায় উৎপাদিত দুধ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বাইরে পাঠানো হয়।

জেলায় ডিমের চাহিদা রয়েছে ২০.৮০ কোটি। জেলায় উৎপাদিত ডিমের পরিমাণ ১৭.২০ কোটি । যেখানে ঘাটতি থাকে প্রতিবছর ৩.৬০ কোটি। জেলাতে মাংসের চাহিদা রয়েছে ০.৮৭৬ লক্ষ মেট্রিক টন। আর সরবরাহ রয়েছে ০.৫৭৫ লক্ষ মেট্রিক টন। ফলে প্রতিবছর ঘাটতি থাকে ০.৩০১ লক্ষ মেট্রিক টন। জেলা প্রাণিজসম্পদ কর্মকর্তার দাবী বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষার রির্পোট অনুযায়ী জেলার মানুষ প্রাপ্যতা অনুযায়ী মাংস ও ডিম খায় না। তাই মাংস ও ডিমে ও জেলায় ঘাটতি থাকে না।

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের মতে বর্তমানে জেলায় ৪ লক্ষ ৮৬ হাজার ১১২টি পশু, ৫৮৪৩টি মহিষ, ৩ লক্ষ ১৫ হাজার ৮১৯টি ছাগল, ৩৮ হাজার ৪১২টি ভেড়া, ৪৩ লক্ষ ৬৯ হাজার ১৮৮টি মুরগী ও ৪ লক্ষ ৬৩ হাজার ২৪টি হাস রয়েছে। সূত্র মতে জেলায় রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত দুগ্ধ খামার ২০৮৬টি ও অরেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত দুগ্ধ খামার ৩৪৫টি এবং মুরগী ও গাভীর খামার রয়েছে ১২ হাজার ৫১৬টি। ছাগলের রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত খামার রয়েছে ১৮৬টি ও ভেড়ার ৭৩টি।

ব্রয়লার মুরগীর রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত খামার রয়েছে ২১৭৯টি ও লেয়ার মুরগীর রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত খামার রয়েছে ২৬৮৭টি। তবে বেসরকারী হিসাব মতে এর সংখ্যা অনেক বেশি।

জেলায় গবাধি পশু চিকিৎসার প্রায় ২-৫ ভাগ ওষুধ সরকারিভাবে সরবরাহ করা হয় বলে জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর জানায়। চলতি বছরে ২ লক্ষ ৯২ হাজার ১৩ টি গবাধি প্রাণির টিকা প্রদান করা হয়েছে। হাস মুরগীর টিকা প্রদান করা হয়েছে ৩৮ লক্ষ ৯৮ হাজারটি। এক লক্ষ ৪০ হাজার গবাধি প্রাণির চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। ৭৭ লক্ষ ৪৯৪টি হাস-মুরগীর চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এসব ওষুধ ও চিকিৎসা সেবা দেয়ার নামে রয়েছে ব্যাপক অনিয়ন ও দুর্নীতির অভিযোগ।

এরপরও চলতি বছরে ২৯৩টি উঠান বৈঠক করেছে জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর। ফলে বছরের বেশির ভাগ সময়ে কর্মব্যস্ত থাকতে হয় তাদের। প্রথম শ্রেণির ১৬ কর্মকর্তার মধ্যে ৯টি পদই রয়েছে শূন্য। তৃতীয় পদে রয়েছে ৯টি ও চতুর্থ শ্রেণি পদে ২০টি পদেও ১০টিই শূন্য। ৭৮টি ইউনিয়নের ২১জন ফিল্ড অফিসার কর্মরত। ফলে ৩ থেকে ৪টি করে ইউনিয়ন একজন করে ফিল্ড অফিসার। শ্যামনগর ও কলারোয়াতে প্রথম শ্রেণির কোন কর্মককর্তা নেই। যদিও প্রত্যেক উপজেলাতে একজন করে প্রথম শ্রেণির চিকিৎসাবিদ ও একজন কৃষিবিদ থাকার কথা। এসব কারণে জেলায় সম্ভাবনাময় এ খাতটি অবহেলিত রয়েছে। চাষীদের মাঝে ক্ষুদ্র ঋণ ও বন্ধ রয়েছে। এর পরিবর্তে সরকার ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প চালু করেছে। আগামি ২০২১ সালের পর থেকে প্রকল্পটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সমরেশ চন্দ্রদাশ জানান, জনবল সংকট নিরসনে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। জনবল পেলে তারা ব্যাবস্থা নিবে।

একই রকম সংবাদ সমূহ

১৪ জুলাই: যবিপ্রবির ল্যাবে সাতক্ষীরা জেলার ৩০ জন করোনা পজিটিভ!

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারে ১৪ জুলাই,২০২০বিস্তারিত পড়ুন

বর্ণিল সাজে সেজেছে সাতক্ষীরার ৫৮৪টি দুর্গাপূজা মন্ডপ

সনাতন ধর্মালম্বীদের সব থেকে বড় ধর্মীয় উৎসব (দূর্গাপূজা) কে কেন্দ্রবিস্তারিত পড়ুন

‘ভোমরা স্থলবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ বন্দর করা হবে’ : নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী

সাতক্ষীরা ভোমরা স্থলবন্দর উন্নয়ন ও পরিচালনা গতিশীলতা আনয়নের নিমিত্ত গঠিতবিস্তারিত পড়ুন

  • ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই’ : জেলা প্রশাসক মোস্তফা কামাল
  • ‘ভূয়া’ সংবাদিকদের দৌরাত্মে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে
  • সাতক্ষীরার বাঁশদহের ভবানীপুর প্রাইমারি স্কুলে মিলন সভাপতি নির্বাচিত
  • সাতক্ষীরায় র‌্যাবের অভিযানে গাঁজাসহ এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার
  • আশাশুনিতে পূর্বের বিয়ের তথ্য গোপন করে আবারো অন্যত্র বিয়ে দেয়ার অভিযোগ!
  • সাতক্ষীরায় প্রি-পেইড মিটার স্থাপন ও চুরিরোধে ওজোপাডিকো’র অভিযান
  • ৭ অক্টোবরের মধ্যে জেলার সব নদী-খালের অবৈধ নেট-পাটা-বাধ অপসারণের নির্দেশ
  • সাতক্ষীরায় ছাগল খড়ি’তে দেয়ার অপরাধে যুবককে মারপিট!
  • সাতক্ষীরা জেলা ব্যাপী গ্রেফতার ১৩, ইয়াবা-ফেন্সিডিল-গাঁজা উদ্ধার
  • পাটকেলঘাটা মডেল হিসাবে জেলায় কাজ করবে: সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক
  • তালার জিয়ালা গ্রামকে শহরে রূপান্তরের ঘোষণা জেলা প্রশাসকের
  • সড়কের জায়গা দখল করে ব্যবসা নয়, অবৈধ বিলবোর্ড অপসারণের নির্দেশ ডিসি’র